এথেন্সে-আন্তর্জাতিক-ক্রিসমাস-বাজারে-বাংলাদেশের-অংশগ্রহণ

এথেন্সে আন্তর্জাতিক ক্রিসমাস বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ


প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও গ্রীসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের আন্তর্জাতিক ক্রিসমাস বাজারে অংশগ্রহণ করে। গ্রীসের সুপরিচিত সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব চিলড্রেন’ এই আন্তর্জাতিক বাজারের আয়োজন করে।


Hostens.com - A home for your website

গত ২৩ ও ২৪ নভেম্বর শনিবার ও রোববার এথেন্সের হেলেক্সপো প্রদর্শন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বাংলাদেশসহ ৩৭টি দেশ অংশ নেয়।

এই আয়োজনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, কৃষ্টি এবং উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে যা অনুষ্ঠানে আগত হাজারো দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শাড়ি, পাঞ্জাবি, নকশীকাঁথা, ঐতিহ্যবাহী মনোহারী সামগ্রী ও হস্তশিল্প সামগ্রীসহ দেশীয় বিভিন্ন পণ্য সম্ভারে সুসজ্জিত বাংলাদেশ স্টলের প্রতি দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

দর্শকরা বাংলাদেশের সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে পরিচিত হবারও সুযোগ লাভ করে এবং বাংলাদেশের পর্যটন, বিনিয়োগ, ব্যবসা, বাণিজ্য সম্পর্কিত লিফলেট, পুস্তিকার মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে অবগত হয়।

বাংলাদেশ স্টলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন সংক্রান্ত বিশেষ পোস্টার প্রদর্শন করা হয়।

বিপুল সংখ্যক দর্শকের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে এ বছর বাংলাদেশ স্টলে আগত অতিথিদের বাংলাদেশ সম্পর্কিত নকশা সম্বলিত টি-শার্ট, চাবির রিং, কলম, কোটপিন ইত্যাদি উপহার দেয়া হয়।

বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহী একটি বিশেষ ফটোবুথের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের ছবি তোলার ব্যবস্থা করা হয়। দূতাবাস পরিবারের সদস্যগণ বাংলাদেশ স্টলে আগত নারী ও শিশু দর্শনার্থীদের হাতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেহেদীর নকশা অংকন করেন।

বাংলাদেশ স্টলে আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন এবং তার সহধর্মিণী মিসেস শায়লা পারভীন। দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং দূতাবাস পরিবারের সদস্যগণ স্টল পরিচালনা করেন।

এই আয়োজনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা এবং বিশ্ব সম্প্রদায় কর্তৃক সেই উন্নয়নের স্বীকৃতি বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি অনন্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

হেলেক্সপোতে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গ্রীসবাসীর আরও কাছে আসার সুযোগ পেয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এ ধরনের প্লাটফর্ম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আবহমান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ, ব্যবসা-বাণিজ্য সুবিধা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগত দর্শকদের মাঝে আগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী বছর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করব।

এই মেলায় অংশ নিয়ে আমরা জাতির পিতা এবং তার জন্ম শতবার্ষিকী সম্পর্কে তথ্য গ্রীসে বসবাসকারী প্রায় ৩৭টি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।

দর্শকদের অনেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশেষত পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বাজারে বিদেশস্থ কূটনৈতিক, দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যম কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক গ্রীক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক মেলায় উপস্থিত ছিলেন।

কয়েকজন দর্শনার্থীর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তারা এই মেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক তথ্য বিশেষত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ইতিহাস, সংস্কৃতি বিষয়ে জানার সুযোগ পেয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে এ বছর বাজারে প্রায় পনের হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে।

Facebook Comments