স্বপ্ন-যাবে-বিশ্বকাপে-পথ-চেয়ে-আমরা

স্বপ্ন যাবে বিশ্বকাপে, পথ চেয়ে আমরা


বেশ কিছু বছর হল ঈদ আসলেই ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ গানটা সবাই গুনগুনিয়ে গাইতে থাকে। তবে এবার ঈদ এসেছে বিশ্বকাপ সঙ্গে করে। তাই তো স্বপ্নটা এখন বাড়ির উঠোন ঘুরে আইসিসি বিশ্বকাপের আঙিন ঘিরে রেখেছে দুহাত প্রসারিত করে। ১৬ কোটির ক্রিকেট প্রেম বলে কথা!


Hostens.com - A home for your website

ব্যাটিংয়ে যখন সাকিব-মুশফিক এই দুজনের অর্ধশতকের হাতছানি তখন হয়ে গেল শতক। ৯৫ বলে ১০০ রানের পার্টনারশিপ। সাকিব কিছুটা দৌঁড়ে এসে মুশফিকের সঙ্গে হাত মেলাতেই মুশফিক জড়িয়ে ধরল।

গ্যালারিতে দর্শক করতালি আর বাঙালিরা মনে আপ্লুত স্বপ্ন। ১০০ রানের পার্টনারশিপ ছাড়িয়ে এই জুটির শেষমেষ বিশ্বকাপের বাংলাদেশের রেকর্ড পার্টনারশিপে গড়াল। তখনই শুরু হল বিশ্লষণ। কেউ বলে ৩৫০, আবার কিউবা ৩৪০। হ্যাঁ এমনই তো, বাংলাদেশের লাল সবুজ জার্সি জড়িয়ে সবাই হাত ধরে এভাবেই স্বপ্নটা বড় করে তোলে।

ক্রিকেটটা আবেগের বাইরে থেকে যদি মাথা দিয়ে চিন্তা করেন তাহলে হয় তো বলতে হয় আসর সবে শুরু, এখনই এত কথা কীসের!

কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশিদের আবেগের অপর নাম যে ক্রিকেট, এটা ক্রিকেট দুনিয়ার জানা বহুত পুরনো তথ্য। এজন্য ক্রিকেট দুনিয়া এই পাগলামুকে স্বাগত জানায় পরম মমতায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৭ সালের ম্যাচের স্মৃতি বারবার আজকের ম্যাচে ফিরে আসছিল আর তখনই তো আশার দানা বাঁধতে শুরু হয়েছিল। আমাদের সামনে নতুন কিছু ছিল না, শুধু আজ নতুন করে আরও একবার করে দেখানোর পালা ছিল।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ম্যাশ বাহিনীর কিন্তু সহজ ও কঠিন মিলিয়ে বেশ কিছু ক্যাচ মিস হয়েছিল। অনেকের মুখে তখন শুনেছি ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। কিন্তু উল্টোটা করে দেখালেন আজকের ম্যাচের নায়ক সাকিব আল হাসান। যিনি কিনা আজকেই এক সঙ্গে কয়েকটা রেকর্ড ছুঁলেন। দলের প্রয়োজনে সাকিব নিলেন এক অসাধারণ ক্যাচ। যা বাড়িয়ে দিল আমাদের মনে আরও স্বপ্নজয়ের খোরাকি।

শুরু থেকে যদি শেষ চিন্তা করি, নিঃসন্দেহে বলতেই হয় সৌম্য সরকারের কথা। যার শুরুটাই আজ এমন দাপুটে শেষ আনতে অদম্য শক্তি জুগিয়েছিল আফ্রিকা বধে।

মুশফিক ধারাবাহিক, অতুলনীয় নান্দনিক ব্যাটিং করেছে। তবে বোলিংয়ে সাইফউদ্দিন এত সুন্দর স্পটে বল করল অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

মিরাজ হাটিহাটি পা পা করে এগিয়েই চলেছে। তার জয়পথ আর খুব বেশি অধরা নয়। মোস্তাফিজের ঘাড়ে আমাদের স্বপ্নটা অনেকখানিই ভর করে সেটা সারাবিশ্ব জানে, কারণটাও স্পষ্ট। ফিজ তো বিশ্ব মঞ্চের বড় তারকা।

ক্রিকেট মস্তিস্ক দিয়ে যদি কিছু কথা চিন্তা করি, এখনও বিশ্বকাপের অনেকগুলো ম্যাচ। আসরের বিচারে এই বিশ্বকাপ সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সেই সঙ্গে বলতেই হয় সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বড় মঞ্চে জয়ের মন্ত্র একটাই ম্যাচ বাই ম্যাচ ধরে এগোতে হবে। সেটা নিশ্চয় মাশরাফি-সাকিবরা জানে, সেই সঙ্গে আমাদেরও জানতে হবে।

সত্যি বলতে ওরা ১১ জন শুধু মাঠের ক্রিকেটটাই খেলে, বাকিটা আমরা দর্শক-সমর্থকরা। মাঠে খেলতে তাদের যে অনুপ্রেরণা, ভালবাসার দরকার হয় তার সবটাই তো জুগিয়ে থাকি আমরা ১৬ কোটি মানুষ। যাদের স্বপ্ন কিনা আজ বাড়ির উঠোন ঘুরে ইংল্যান্ডের আঙিনায় অবাধ বিচরণ করে!

Facebook Comments

" ওয়ার্ল্ড কাপ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 6

Visitor Yesterday : 98

Unique Visitor : 145280
Total PageView : 152301